কোরবানির ঈদ মানেই ব্যস্ততা।
সকালের কোরবানি থেকে শুরু করে মাংস কাটাকাটি, ধোয়া, সংরক্ষণ, রান্নাবান্না—সব কাজের বড় একটা চাপ পড়ে হাতের ওপর।
দিনভর পানি, সাবান, ডিটারজেন্ট, কাঁচা মাংস আর মসলার সংস্পর্শে থাকার কারণে ঈদের পর অনেকের হাত হয়ে যায় রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন।
অনেক সময় নখ ভেঙে যাওয়া, কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা ত্বকে জ্বালাপোড়ার সমস্যাও দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের আগে থেকেই হাতের যত্ন নেওয়া শুরু করলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ঈদের আগে থেকেই শুরু হোক যত্ন
রূপবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের অন্তত তিন থেকে পাঁচ দিন আগে থেকেই হাতের যত্ন নেওয়া উচিত।
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ভালো মানের হ্যান্ড ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে হাতের ত্বক নরম থাকে।
যাঁদের হাত দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়, তাঁরা গ্লিসারিন, অ্যালোভেরা জেল ও ময়েশ্চারাইজার একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
এতে ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় বজায় থাকে।
অনেকে আবার ঘরোয়া উপায়ে হাতের যত্ন নিতে পছন্দ করেন।
মধু, নারকেল তেল ও অলিভ অয়েল হাতের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে বলে জানিয়েছেন সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞরা।
স্ক্রাবিং কেন জরুরি
হাতের মৃত কোষ পরিষ্কার না করলে ত্বক মলিন দেখাতে পারে।
তাই সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই দিন হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘরেই সহজে স্ক্রাব তৈরি করা যায়।
দুই চামচ নারকেল তেল বা জলপাই তেলের সঙ্গে সামান্য চিনি মিশিয়ে হাত ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করলে ত্বক পরিষ্কার ও মসৃণ হয়।
তবে খুব বেশি ঘষাঘষি না করাই ভালো।
অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

নখ ছোট রাখাই ভালো
কোরবানির সময় লম্বা নখ অনেকের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মাংস কাটাকাটি বা রান্নার সময় নখ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ ছাড়া নখের নিচে সহজেই ময়লা ও জীবাণু জমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের সময় নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।
রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, “কাঁচা মাংসের সংস্পর্শে দীর্ঘ সময় থাকায় নখ পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
কখন করাবেন ম্যানিকিউর
ঈদের আগে অনেকেই ম্যানিকিউর করাতে চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে ম্যানিকিউর করানো সবচেয়ে ভালো।
এতে হাত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন দেখায়।
এ ছাড়া ঈদের পর রিপেয়ার বা হাইড্রেটিং ম্যানিকিউর করলে শুষ্কতা ও ক্ষতিগ্রস্ত কিউটিকল অনেকটাই ঠিক হয়ে যায়।
বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘ সময় রান্না বা মাংস প্রসেসিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাঁদের জন্য ঈদের পরের ম্যানিকিউর বেশ উপকারী হতে পারে।
হাতের শুষ্কতা রোধে কী করবেন
ঈদের সময় সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো হাত অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
দিনজুড়ে সাবান, পানি ও ডিটারজেন্ট ব্যবহারের কারণে হাতের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়।
তাই প্রতিবার হাত ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার অভ্যাস করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা কড়া সাবানের বদলে মাইল্ড হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
বাসন ধোয়া কিংবা মাংস পরিষ্কারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করলে হাত অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে।
তবে দীর্ঘ সময় ভেজা গ্লাভস পরে থাকা ঠিক নয়।
কাজ শেষে হাত ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।
কাঁচা মাংস ব্যবহারে সতর্কতা
চিকিৎসকদের মতে, কাঁচা মাংসে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু থাকতে পারে।
যাঁদের হাতে কাটা বা ক্ষত আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেশি।
তাই মাংস ধোয়া বা কাটার পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
হাতে জ্বালাপোড়া বা চুলকানি হলে দ্রুত পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নেইল আর্ট কি এ সময় এড়িয়ে যাওয়া উচিত?
সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির ঈদের সময় ভারী নেইল আর্ট বা জেল পলিশ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
কারণ, দীর্ঘ সময় পানি ও কাঁচা মাংসের সংস্পর্শে থাকলে পলিশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া কৃত্রিম নখে সহজে জীবাণু জমতে পারে।
তাই এ সময় সাধারণ ও হালকা নেইল কেয়ারই বেশি উপযোগী।
পর্যাপ্ত পানি পানও জরুরি
ত্বক ভালো রাখতে শুধু বাইরের যত্ন নিলেই হবে না।
ভেতর থেকেও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে হবে।
পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
এ ছাড়া শসা, ফলমূল ও পানি–সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
সচেতনতাই পারে হাত সুন্দর রাখতে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন সামান্য সময় হাতের যত্নে ব্যয় করলে ত্বক দীর্ঘ সময় কোমল ও স্বাস্থ্যকর থাকে।
নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, নখ পরিষ্কার রাখা এবং গ্লাভস ব্যবহারের মতো ছোট ছোট অভ্যাসই হাতকে রাখতে পারে সুন্দর ও সুরক্ষিত
